ধুতুরা

সাধারণ গুন : ধুতুরা কটুরস, উষ্ণবীর্য, ব্রণনাশক, কান্তিবর্ধক, মূর্ছা কারক, ভ্রমকারক, জ্বরনাশক, চুলকানি,চর্মরোগ , পাঁচড়ানাশক । ইহা শ্বাসকষ্ট , কাশ নাশক, বেদনানাসক, নিদ্রাকারক, মূত্রকর, বায়ুবর্ধক ।

ব্যবহার্য অংশ : পাতা, মূল, ফল এবং বীজ । ব্যবহার : ধুতুরা রস মাথায় মাখলে উকুন মরে যায়। এর রস কানে দিলে বেদনা আরাম হয়। যে কোন ব্যথা বা ফুল উপশম হয়। পাতার রস এবং ধূম হাঁপানীতে হিতকর। পাঁচ ফোটা মাত্রায় পাতার রস খেলে ক্রিমি মরে যায়। কারো কারো মতে ২/৩ ফোটা রস ঘোলের সাথে মিশিয়ে সেবন করলে ক্রিমি নষ্ট হয়ে যায়। টাকে পাতার রস লেপন করলে টাক আরোগ্য হয় বলে উল্লখ আছে। দাঁতের গোড়া ফুললে ধুতুরা পাতার রসের সাথে এক আনা পরিমান আফিম মিশিয়ে ফোলা স্থানে লাগালে উপকার হয়। স্ত্রীলোকের স্তনে ব্যথা হলে বা ফুলে গেলে ধুতুরা পাতার রসের সাথে সামান্য হলুদের গুড়া মিশিয়ে লাগালে ব্যথা ফুলা আরোগ্য হয়। পাতার রসের সাথে সামান্য ঘি মিষিয়ে ফেড়ায় দিলে ফেড়া দ্রুত পেকে যায় এবং ফেটে যায়। হাড়ের জোড়ার বাতজনিত স্ফীতি, ব্যথাযুক্ত টিউমার, স্নায়ুশূল, পায়ের কুনি, নখের ব্যথা, শরীরের কোথাও ব্যথাযুক্ত স্ফীতি, প্রভৃতিতে ধুতুরা পাতা প্লাস্টার করলে অথবা পাতা গরম করে জড়িয়ে দিলে অত্যন্ত উপকার পাওয়া যায়। ধুতুরা পাতার রসের সাথে সরিসার তেল মিশিয়ে গরম করে মালিশ করলে বাতের ব্যথা কমে যায়। ধুতুরার মূল গুঁড়া করে দাঁতের গোড়ায় দিলে বেদনা আরাম হয়। ধুতুরা ফলের রস মাথার খুসকি এবং চুল পড়া রোগে কার্যকর। বীজ বেটে তেলের সাথে মাথায় মাখলে উকুন মরে যায়। আরো বিস্তারিত জানতে বা সরাসরি হেকীম সাহেবের সাথে কথা বলতে ফোন করুন : ০১৯৭৭-৭৭৩৪৮২

আদার উপকারিতা:


ব্যবহার্য অংশ : রাইজোম কান্ড। বদহজমি জনিত পেট ব্যাথায় তাজা আদা ও সামান্য লবন খেলে দ্রুত উপশম হয়। খাবার পূর্বে আদা ও লবন খেলে পেট ফাঁপা দূর হয়, মুখে রুচি হয়। অজীর্ণ ভাল হয় এবং ক্ষুদা বৃদ্ধি পায়। সর্দি ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রভৃতি সামান্য জ্বরে আদা-চা একটা উৎকৃষ্ট পানীয় হিসেবে পরিচিত। অল্প গরম অবস্থায় শুষ্ক আদার ক্বাথ পান করলে শ্বাস, কাশ, হৃদরোগ, বুকধড়ফড়ানি কমে যায়। গাওয়া ঘি-এর সাথে মেখে শুষ্ক আদা চূর্ণের নস্যি নিলে তীব্র শিরোবেদনা উপশম হয়।


কাশি ও হাঁপানিতে আদার রস মধুর সাথে সেব্য। আদার রস ব্যবহারে মূত্র বৃদ্ধি হয় এবং শোথ রোগ ভাল হয়। অজীর্ণ, শূল বেদনা, বমি, অক্ষুধা, পেট ফাঁপা প্রভৃতি রোগে ১০ থেকে ২০ গ্রেন মাত্রায় শুষ্ক আদা চূর্ণ বিশেষ ফলদায়ক।

আদা হাড়ের জোড়াগুলিকে উত্তপ্ত করে তাই গেটে বাতে আদা বেশ ফলদায়ক। কাঁচা আদা চিবিয়ে খেলে মুখ হতে অধিক লালা বের হয়, দাঁত ব্যাথার উপশম হয়, টনসিল ব্যাথা কমে যায়, স্বরভঙ্গতা দূর হয়। আদা দৃষ্টিশক্তিকে স্বচ্ছ করে। অাদার গুড়া এক গ্রাম মাত্রায় গরম পানির সাথে কিছুদিন খেলে পুরাতন আমাশয় ভাল হয়ে যায়। কোন স্থান কেটে গেলে শুষ্ক আদার গুড়া লাগালে রক্তপড়া বন্ধ হয় এবং কাটা স্থান তাড়াতাড়ি জোড়া লাগে।

আরও বিস্তারিত জানতে অথবা কোন রোগের চিকিৎসা নিতে ফোন করুন ০১৭৩৯-৫৬৩৫৬৩

 


তুলসী

তুলসীর ঔষধী গুনাগুন : সুগন্ধিযুক্ত, কটু তিক্তরস, উষ্ণবীর্য, উত্তেজক, রুচিকর। ইহা সর্দি, কাশি, কৃমি ও বায়ুনাশক এবং মুত্রকর, হজমকারক, ও এন্টিসেপ্টিক। ব্যবহার্য অংশ: পাতা ও শিকড়।


আমাদের দেশে ছেলে মেয়েদের সর্দি-কাশিতে তুলসী পাতার রস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এসব ক্ষেত্রে কয়েকটি তাজা তুলসী পাতার রসের সাথে একটু আদার রস ও মধু সহযোগে সেবন করানো হয়। তুলসী, কন্টিকরি, গুলঞ্চ, আদা ও ভূমিজম্বুর সমপরিমাণ ক্বাথ ফুসফুস সমন্ধীয় সকল পীড়ায় অত্যন্ত কার্যকর। মাত্রা দুই তোলা। 
তুলসী পাতার রসে মধু মিশিয়ে খাওয়ালে বাচ্চাদের পেট কামড়ানি, কাশি ও লিভার দোষে উপকার হয়। 
তুলসী পাতা ও দুর্বার ডগা বেটে গায়ে মাখলে ঘামাচি ও চুলকানি ভাল হয়।
তুলসী পাতার রস স্থানীয়ভাবে দাদ ও অন্যান্য চমর্পীড়ায় প্রয়োগে বেশ উপকার হয়। পাতার রস ফোটা ফোটা করে কানে দিলে কানের ব্যাথা সেরে যায়।
পাতা ও শিকড়ের ক্বাথ ম্যালেরিয়া জ্বরে বেশ কার্যকর।
বসন্ত, হাম প্রভৃতি পিড়কা বা গোটা ঠিকমত বের না হলে, তুলসী পাতার রস খেলে তাড়াতাড়ি বের হয়ে যায়।

আরও বিস্তারিত জানতে কমেন্ট করুন অথবা ফোন করুন ০১৭৩৯-৫৬৩ ৫৬৩
পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের জানিয়ে দিন। ধন্যবাদ।

রসুনের ঔষধি গুনাবলি :

রসুন উষ্ণবীর্য, বলকারক, শুক্রবর্ধক, মেধাজনক, রসায়ন, কুষ্ঠ পরিষ্কারক, অরুচিনাশক, যৌবনের স্থিতিকারক, মৃদুবিরেচক, স্বর ও বর্ণের প্রসাদক, বক্ষশূল ও মূত্র অবরোধ নাশক, ভগ্ন স্থানের সংযোগ, শোথ, অর্শ, কুষ্ঠ ক্রিমি, অগ্নিমান্দা, পুরাতন জ্বর, অজীর্ণ, হৃদরোগ ও বাতজনিত রোগ নিরাময় করে। রসুন মূত্রকর, ঋতুকারক, পরিপাক যন্ত্রের পীড়ানিবারক এবং রক্তচাপ হ্রাসকারক।

ব্যবহার্য অংশ: রসালো শল্কপত্র বা কোয়া।

ব্যবহার: পেট ফাঁপায় ২/৩ কোয়া রসুন লবনসহ বা লবন ছাড়া খেলে অল্প সময়েই পেট ফাঁপা নিবারণ হয়। এর ক্বাথ দুধের সাথে অল্পমাত্রায় সেবন করলে হিস্টরিয়া, সায়াটিকা, পেট ফাঁপা ও হৃদযন্ত্র সমন্ধীয় বিভিন্ন রোগে উপকার হয়। কৃমিনাশক হিসেবে রসুনের সুনাম রয়েছে, কৃমিনাসের জন্য রসুনের রস ১০-৩০ ফোঁটা মাত্রায় সেবনের নির্দেশ দেওয়া হয়। রসুনের রস মৃদু গরম করে ২/৩ ফোঁটা কানে দিলে কানের ব্যাথা ও কানের অন্যান্য রোগের উপশম হয়। রসুনের রস নিয়মিত মাথায় দিলে (প্রয়োজনে অন্যান্য তেলর সাথে মিশিয়ে) মাথার চুল অনেক দেরিতে পাকে ও রসুন বেটে মাথায় দিলে টাক আরোগ্য হয়।
রসুনের সিরাপ হাঁপানির একটি মহৌষধ হিসেবে পরিচিত। ইহা ফুসফুসের অন্যান্য রোগে সাফল্যের সাথে ব্যবহৃত হয়।

আরও বিস্তারিত জানতে কমেন্ট করুন অথবা ফোন করুন ০১৭৩৯-৫৬৩ ৫৬৩